শারীরিক ব্যায়াম নিয়ে প্রবন্ধ রচনা লেখ

সূচনা

স্বাস্থ্যই সম্পদ। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী না হলে জীবনে কোন কঠিন কাজ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় না। রুগ্ন স্বাস্থ্য ব্যাধির মন্দির।

শরীর যদি সর্বদাই অসুস্থ থাকে তবে কোন  কাজেই উৎসাহ পাওয়া যায় না। মনও সব সময় খিটখিটে হয়, অশান্তি লেগেই থাকে।

সকলেই যখন নানা প্রকার কাজে ব্যস্ত তখন দুর্বল ব্যক্তি মনে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সেই কাজে যােগদান করতে পারে না। তাই তার মনে কোন সময়ই আনন্দ থাকে না।

এই দুর্বল শরীরকে সুস্থ সরল করে তুলিতে হইলে প্রয়ােজন ব্যায়ামের। নিয়মিত ও পরিমিত ব্যায়ামই আমাদের স্বাস্থ্য সুগঠিত করে তোলে। নিয়মিত শক্তি ও স্বাস্থ্য লাভের জন্য যে অঙ্গচালনা তার নাম ব্যায়াম।

স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য যেমন নিয়মিত আহার, বিশুদ্ধজল বায়ুর প্রয়ােজন তেমনি ব্যায়ামের ও প্রয়োজন।

ব্যায়ামের উপকারিতা

শরীর ভাল থাকিলে মনও ভাল থাকে। মনের শান্তির উপরই সমস্ত কাজ কর্মে সাফল্য নির্ভর করে। অসুস্থ বা অশান্ত মন লইয়া কর্মেই এগোতে উৎসাহ পাওয়া যায় না।

দুর্বল মন কোন কিছু উন্নত চিন্তায় সাহায্য করে না। ব্যায়ামের দ্বারা কিন্তু এই দুর্বল মনকে সবল করা যায়।

তাই ব্যায়ামের দ্বারা শরীরই যে শুধুমাত্র সবল হয় তা নয়, মনও সবল হয়। নিয়মিত ব্যায়াম অভ্যাস করলে আমাদের শরীর সতেজ থাকে। আমাদের দেহ এক যন্ত্র বিশেষ।

যন্ত্রের নিয়মিত চালনা করিলে যেমন তাতে মরিচা ধরে, তেমনি আলস্যে দিন কাটালে শরীরও কর্মে অক্ষম হয়। তার ফলে আমাদের ক্ষুধা হয় না, হজম ভাল হয় না; নানা রোগের সৃষ্টি হয়।

কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করলে এই সকল রােগ ব্যাধি হইতে মুক্তি পাওয়া যায়।

ব্যায়ামে আমাদের ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়, পরিপাক শক্তি বাড়ে। ফুফু ও যকৃতের কাজ ও ভাল হয়। বিদ্যালাভ করিয়া যত বড় পণ্ডিতই হই না কেন শরীর সুস্থ না থাকলে ঐ বিদ্যা কোন কাজে আসে না।

Read More:  Top-Notch Shows On Netflix

কারণ দেহ যদি ব্যাধির মন্দির হয় তাহলে মন হবে অশান্তির আস্তাকুড়।

নিয়মিত যত্নে রত্ন লাভ

যত্ন করিলে রত্নলাভ হয়। ইচ্ছা ও চেষ্টা থাকিলে স্বাস্থ্যলাভ করা যায়। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হইতে হইলে চাই নিয়মিত ব্যায়াম। ব্যায়াম অনুশীলন করার অর্থ ব্যায়ামবিদ হওয়া নয়।

যাহারা ব্যায়ামবিদ হতে চান তাদের কথা স্বতন্ত্র। কিন্তু সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার অর্থ ব্যায়ামবিদ হওয়া নয়।

তার যে জন্য প্রয়ােজন নিয়মিত ও পরিমিত আহার ও নিদ্রা-অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নিয়মিত চালনা। নিয়মিত সকালে বিকালে ভ্রমণ, সঁতার কাটা, দৌড়ঝাঁপ করা, হাড়-ডু বা কবাডি খেলা, ক্রিকেট খেলা, ইত্যাদিতে শরীর সুস্থ ও দৃঢ় হয়।

সব খেলা সকলের উপযােগী নয়। যেমন কতকগুলি খেলা যাহা বেশ ব্যয়বহুল। যেমন ক্রিকেট খেলা। ক্রিকেট যেমন খেলার রাজা, তেমনি রাজার খেলাও বটে।

তাই আমাদের মত দরিদ্র ঘরের সন্তানদের পক্ষে সর্বদা হয়ত এই খেলার অনুশীলন করা সম্ভব হইয়া উঠে না। কিন্তু সঁতার, দৌড়-ঝাপ বা হা ডু-ডু ইত্যাদি খেলায় পয়সা খরচ হয় না।

অথচ স্বাস্থ্য সুগঠিত হয় এবং মনে আনন্দও পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে নিয়মিতভাবে খােলা মাঠে নদীর তীরে ভ্রমণ ও স্বাস্থের পক্ষে খুবই উপকারী।

বিদ্যালয়ে যে ড্রিল খেলা হয় তাহাও স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব উপকারী। তাহা ছাড়া ডন, বৈঠক, যৌগিক আসন ইত্যাদিও ভাল ব্যায়াম।

নিয়মিত যৌগিক আসন অভ্যাস করিলে শুধু যে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া যায় তাহা নয়, অনেক রােগেরও নিরাময় হইয়া থাকে।

আমাদের দেশের পরলােকগত প্রধান মন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু নিয়মিত যৌগিক ব্যায়াম অভ্যাস করতেন।

নিয়মানুবর্তিতা ও ধারাবাহিকতা

ব্যায়ামে যে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের উপকার হয় তা নয়। এর দ্বারা নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলার অভ্যাস হয়ে থাকে। আর এই কথা কে না জানে যে মানবজীবনে নিয়মানুবর্তিতা ও খেলার প্রয়োজন খুবই বেশি।

অতিরিক্ত বেয়ামের কুফল

কখনও কখনও অতিরিক্ত ব্যায়ামে সুফল অপেক্ষা কুফল বেশি হয়। কিন্তু এটি ব্যায়ামের দোষ নয়। আমার শরীরে যা সহিবে, আমি তাই করব। তার অতিরিক্ত করতে গেলে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়বে।

Read More:  একটি বেকার যুবকের আত্মকথা রচনা

আমাদের দেশে ফুটবল, হকি ইত্যাদি কষ্টসাধ্য খেলার প্রচলন আছে। এই সব খেলার উপকারিতা যে নাই তাহাও বলছি না।

কিন্তু এই সমস্ত শ্রম- সাধ্য খেলা খেলতে গেলে যে খাদ্যের প্রয়ােজন তাহা নিয়মিত ভাবে গ্রহণ করতে হবে।

ইঞ্জিনে নিয়মিত তেল না দিলে যেমন তা চলে না, তেমনি নিয়মিত ও প্রয়ােজন মত খাদ্য গ্রহণ করলে শরীর যন্ত্রও বিকল হয়ে পড়ে।

তাছাড়া খেলায় জয়লাভের আকাঙ্ক্ষায় ছেলেরা যে প্রচণ্ড পরিশ্রম করে, সেটি স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল নয়।

উপসংহার

ব্যায়াম আজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার অন্যতম অঙ্গ বলে বিবেচিত হয়েছে। মনের সঙ্গে সঙ্গে দেহের চর্চার ব্যবস্থা বিদ্যালয়ে রয়েছে। নানা দিক বিবেচনা করিয়া এই কথা বলিতে পারা যায় যে ব্যায়ামের প্রয়ােজনীয়তা ছাত্রদের জীবনে খুব বেশি।

নিয়মিত ব্যায়াম করতে করতে এমন অভ্যাস হয়ে যায় যে একদিন না করলে শরীর অসুস্থ বলে বােধ হয়।