বিশেষ্য পদ ও তার শ্রেণী বিভাগ বলতে কি বুঝ

রবীন্দ্রনাথ একজন বড়াে কবি ছিলেন। তিনি কাল কলকাতা যাবেন। সেনাবাহিনী মাঠে কুচকাওয়াজ করছে।
রবীন্দ্রসদনে কাল সুমিতার নাচ আছে।
বিদ্যা বিনয় দান করে। সােনা থেকে গহনা প্রস্তুত হয়।
রামের ভাই খুব ভালাে ছেলে। এখানে উল্লিখিত মােটা হরফের  শব্দগুলােকে বলা হয় বিশেষ্য পদ। এরা প্রত্যেকেই এক একটি নাম বটে, কিন্তু ঠিক এক ধরনের নয়।

তাই বিশেষ্য পদ হলেও, জিজ্ঞাসা থেকে যায়, এরা কী ধরনের বিশেষ্য পদ? এবং বিশেষ্য পদের সংজ্ঞা এবং সূত্রই বা কী?

একথার উত্তরে আমরা বলব, যে পদের, দ্বারা কোনাে ব্যক্তি, জাতি, স্থান, বস্তু, মনােভাব, গুণ, অবস্থা, কাজ, সংখ্যা ইত্যাদির নাম বােঝায়, তাকেই আমরা অভিহিত করি বিশেষ্য পদ বলে।

মােটকথা সমষ্টিবাচক, ক্রিয়াবাচক, গুণবাচক, জাতিবাচক এবং বস্তুবাচক শব্দ দিয়ে বিশেষ্য পদগুলাে তৈরি হয়। বিশেষ্য পদের বিশেষ কয়েকটি প্রকারভেদ আছে।

সেই ভাগগুলাে হল এইরকম : 

বিশেষ্য পদের শ্রেণিবিভাগ

[১] সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য

রামায়ণ ও মহাভারত আমাদের জাতীয় মহাকাব্য। তাজমহল হল পৃথিবীর সপ্তমাশ্চর্যের একটি আশ্চর্য। কলকাতা আমাদের প্রিয় শহর। গঙ্গার তীরে মন্দির।

গঙ্গা হল পবিত্র নদী। মােটা অক্ষরে, এগুলাে সবই হল বিশেষ্য পদ।

এই বিশেষ্য পদগুলাের সাহায্যে বিশেষ ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থ, পর্বত, নদনদী ইত্যাদি বােঝাচ্ছে, তাই একে আমরা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বলে অভিহিত করব।

[2] শ্রেণিবাচক বিশেষ্য

গাছ কাটা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। মানুষ মরণশীল। জার্মানরা পরিশ্রমী।

এই মােটা অক্ষরে লেখা বিশেষ্য পদগুলাের দ্বারা কোনাে বিশেষ প্রাণী বা বস্তুকে না বুঝিয়ে সেই জাতীয় সব প্রাণী বা বস্তুকে বােঝাচ্ছে, তাই একে আমরা শ্রেণিবাচক বিশেষ্য পদ বলে অভিহিত করব।

Read More:  স্বাবলম্বন নিয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা লেখ

[৩] ভাববাচক বিশেষ্য

স্বাধীনতা আমাদের জন্মগত অধিকার। মনুষ্যত্ব দিয়েই তােক চেনা যায়।

ভণ্ডামি করে বেশি দিন চলে না। নষ্টামি হল এক দুরারােগ্য ব্যাধি। এই স্থূল অক্ষরের বিশেষ্য পদগুলাের মাধ্যমে বিশেষ এক রকমের ভাবের বােধ জন্মায়, তাই একে ভাববাচক বিশেষ্য বলা হয়।

[৪] ক্রিয়াবাচক

রাম প্রতিদিন নদীতে সাঁতার দেয়। ছেলেয় ছেলেয় মারামারি প্রায়শই দেখা যায়।

শীতের মরশুমে ক্রিকেট খেলা দেখা যায়। এই বিশেষ্য পদগুলাের দ্বারা ক্রিয়া বা কার্যের নাম বােঝাচ্ছে, একেই আমরা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য পদ বলি।

[৫] সমষ্টিবাচক

আকাশ দিয়ে একঝাঁক পাখি উড়ে গেল। সভার শেষে জনতা খেপে উঠল। শ্রমিক দল কারখানা বন্ধ করে দিল।

এখানে স্কুল অক্ষরে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদগুলাের দ্বারা কোনাে প্রাণী বা বস্তুর সমষ্টি বােঝাচ্ছে, তাই এগুলােকে আমরা বলি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য পদ।

[৬] বস্তুবাচক বিশেষ্য

সােনা দিয়ে আমরা অলংকার তৈরি করি। লােহা হল সভ্যতার আদিম ধাতু। দুধ খাওয়া উপকারী। দই বড়াে সুস্বাদু। রুপাের রেকাবিতে ফল সাজানাে হল।

এই বিশেষ্য পদগুলাের সাহায্যে বস্তুর নাম বােঝাচ্ছে, তাই একে বস্তুবাচক বিশেষ্য পদ বলে অভিহিত করব।

[৭] অবস্থাবাচক

রামবাবু এখন বার্ধক্যে জরাজীর্ণ। শৈশবে তিনি সুখে ছিলেন। যৌবনে অনেক দায়িত্ব নিতে হয়। দুঃখে সকলেই ম্রিয়মাণ থাকেন।

এখানে বিশেষ্য পদগুলাের দ্বারা আস্থার ভাব বােঝাচ্ছে, তাই এগুলােকে আস্থাবাচক বিশেষ্য পদ বলা হয়। যে বিশেষ্য পদের সাহায্যে প্রাণী বা বস্তুর অবস্থা বােঝায়, তাকে আমরা বলি অবস্থাবাচক বিশেষ্য পদ।

[৮] স্থান বাচক

কলকাতা থেকে চেন্নাই-এর দূরত্ব এক হাজার কিলােমিটার। ঢাকা হল বাংলাদেশের রাজধানী। পুরীতে আছে জগন্নাথের মন্দির।

এখানে বিশেষ্য পদগুলাের দ্বারা বিশেষ বিশেষ স্থানের নাম বােঝানাে হচ্ছে, তাই একে অমিরা। স্থান বাচক বিশেষ্য পদ বলি।

[৯] গুণবাচক

দাহিকা হল আগুনের ধর্ম। ধৈর্য ও ক্ষমা হল মানুষের হৃদয়ের বড়াে গুণ। এখানে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদের দ্বারা গুণ, ধর্ম, কাজ, দোয় ইত্যাদি বিষয়গুলাের।

Read More:  একটি গ্রামের আত্মকাহিনী নিয়ে বাংলা রচনা

নাম বােঝাচ্ছে, তাই একে আমরা গুণবাচক বিশেষ্য পদ বলে অভিহিত করব।