ফাইল, ফাইল সিস্টেম, ডিরেক্টরি ও সাব-ডিরেক্টরি কি?

ফাইল ও ফাইল সিস্টেম

ফাইল হল তথ্যের সমষ্টি, এই তথ্য কোন ডেটা বা প্রােগ্রাম কিম্বা অন্য কোন ধরনের হতে পারে। অফিস আদালতে আমরা কাগজপত্র যেরকমভাবে ফাইলে রাখি, এখানেও বিভিন্ন তথ্য বা নিদের্শকে আমরা কম্পিউটার ফাইলে রাখতে পারি। MS-DOS তথ্যকে এই ফাইল থেকে পড়তে পারে।

ফাইল, ফাইল সিস্টেম, ডিরেক্টরি ও সাব-ডিরেক্টরি

MS-DOS-এ এই ফাইলের একটা নাম দেওয়া হয়। ডিস্কের একই অংশের মধ্যে একই নামের দুটো ফাইল থাকতে পারে না। MS-DOS ফাইলের নামের মধ্যে দুটো অংশ আছে। এ দুটো হল যথাক্রমে প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী ফাইল নেম। এ দুটোর মধ্যে একটা ডট বা কিন্তু দিয়ে পার্থক্য বােঝানাে হয়। ডট-এর বামদিকের অংশ হল প্রাইমারী নেম ও ডানদিকের অংশ হল সেকেন্ডারী নেম।

প্রাইমারী নেমে সর্বোচ্চ ৮টি অক্ষর বা সংখ্যা বা বিভিন্ন চিহ্ন ব্যবহার করা যায়। আর সেকেন্ডারী নেম হিসাবে একই রকমভাবে সর্বোচ্চ তিনটি অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্ন এখানে ব্যবহার করা যায় ও যায় না তার তালিকা দেওয়া হল-

MS-DOS ফাইল নেমে যে যে বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করা যায়

  • $
  • &
  • #
  • @
  • ~
  • %
  • ^

MS-DOS ফাইল নেমে যেযে বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করা যায় না

  • *
  • ?
  • স্পেস
  • <
  • >
  • .
  • ,,
  • /
  • =
  • [
  • ]
  • !

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে সেকেন্ডারী নামকে অনেক সময় এক্সটেনশন (extension)-ও বলা হয়। অনেক ফাইলে এটা থাকতেও পারে আবার অনেক ফাইলে নাও থাকতে পারে। প্রকৃতপক্ষে সেকেন্ডারী ফাইল নেম-এর উপরেই নির্ভর করে ফাইলটা কি ধরনের ফাইল।

এখানে কিছু সঠিক ও ভুল ফাইল-এর নাম দেওয়া হল- 

  • AKASH, SAL&PAY.DAT, 123 COVER.SP$, @Call CP, 56APO-$ ইত্যাদি হল সঠিক ফাইল নাম।
  • MS.COP.EXE, <MONTH, SALARY OF THE MONTH. PROJECT: .DAT, SYS INI.INI*.COM, ?*@.EXE ইত্যাদি হল ভুল ফাইল নাম।

কিছু প্রচলিত এক্সটেনশন নেম ও তার কাজ

  • COM 93 EXE – OS-এর এক্সিকিউটেবল ফাইল
  • DAT – সমস্ত রকমের ডেটা ফাইল
  • BIN – বাইনারী ফাইল
  • PRG – প্রােগ্রাম ফাইল
  • INI –  ইনিশিয়ালাইজেশন ফাইল
  • DOC – ডকুমেন্ট ফাইল
  • WKS – ওয়ার্কশীট ফাইল
  • OVL GROVR – ওভারলে ফাইল
  • DLL – ডায়নামিক লিঙ্ক লাইব্রেরী
  • TXT – টেক্সট ফাইল
  • BAS – বেসিক প্রােগ্রাম ফাইল
  • C – C ভাষায় প্রােগ্রাম ফাইল
  • H – হেডার ফাইল
  • HTM – হাইপারটেক্সট মার্কআপল্যাঙ্গোয়েজ-এ তৈরী ফাইল

ডিস্কের মধ্যে ফাইল বিভিন্ন জায়গায় থাকতে পারে। আমরা আমাদের প্রয়ােজনীয় প্রচুর ফাইল তৈরী করতে পারি এবং সেগুলােকে হার্ড ডিস্ক বা ফ্লপিতে রাখতে পারি।

কিন্তু এইভাবে একটা জায়গায় যদি আমরা কয়েকশাে বা কয়েক হাজার ফাইল রাখি তবে  ফাইল ম্যানেজমেন্ট করা, ফাইল খুঁজে পাওয়া খুবই মুশকিলের ব্যাপার হয়ে যায়। এই কারণে ডিস্কের স্টোরেজ স্পেস-এর মধ্যে আমরা অপারেটিং সিস্টেম-এর সাহায্যে তৈরী করতে পারি বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম ঘর বা খােপ, যার মধ্যে আবার বিভিন্ন ফাইল থাকতে পারে।

এই ঘরগুলাে কিন্তু ফিজিক্যালি অর্থাৎ বাস্তবে তৈরী হয় না। এটা হয় লজিক্যালি অর্থাৎ কোন ঘর কোথায় আছে এবং তাতে কি কি ফাইল আছে সেটা FAT-এই লেখা থাকে। এই ঘরগুলােকে বলা হয় ডিরেক্টারী। একটা ডিরেক্টারীর মধ্যে আবার এক বা একাধিক ডিরেক্টারী থাকতে পারে, এদেরকে বলে সাব-ডিরেক্টারী। সাব- ডিরেক্টারীর ভেতরে আবার সাব-ডিরেক্টারী থাকতে পারে।

হার্ড ডিস্কের পুরাে ডেটা এরিয়াকে বলা হয় রুট ডিরেক্টারী (root directory)। রুট ডিরেক্টারী এরিয়ার মধ্যে থাকে বিভিন্ন ডিরেক্টারী ও তার আন্ডারে বিভিন্ন সাব-ডিরেক্টারী। ডিরেক্টারী ও সাব-ডিরেক্টারী-র মধ্যে অবশ্য বেসিক পার্থক্য কিছু নেই। MS-DOS লজিক্যালি এই কাজটা করে বলে এই ডিরেক্টারী ও সাব-ডিরেক্টারীদের ফাইল হিসাবেই ব্যবহার করা হয় ও ডিরেক্টারী বা সাব-ডিরেক্টারীর অবস্থান FAT-এ নির্দেশিত থাকে। ডিরেক্টরী ও সাব-ডিরেক্টারীকে লজিক্যালি ব্যবহার করা হয় বলে এর স্টোরেজ ক্ষমতার কোন সীমা নেই।

একটা ডিরেক্টারীতে আপনি যতখুশি ফাইল ভরতে পারেন, যতক্ষণ পুরাে ডিস্কটা ভর্তি হয়ে না যাচ্ছে। তেমনি একটার ভেতরে একটা, এইভাবে অসংখ্য সাব-ডিরেক্টারী আপনি তৈরী করতে পারেন। MS-DOS-এ বিশেষ কম্যান্ড নির্দেশের মাধ্যমে এই ডিরেক্টারী ও সাব-ডিরেক্টারী তৈরী করা যায়। ফাইল সিস্টেম বলতে বােঝায় অপারেটিং সিস্টেম যে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ও নির্দিষ্ট রেকর্ডিং ফরম্যাট-এ ডিস্কের অ্যালােকেশন টেবল-এ লেখা পড়ার কাজ করে তাকে। বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম ও রেকর্ডিং মিডিয়া আলাদা আলাদা ফাইল সিস্টেম নিয়ে কাজ করে। DOS ব্যবহার করে FAT বা FAT 16 (16 বিটের ফ্যাট) ফাইল সিস্টেম।

তেমনি উইন্ডােজ 98, মিলেনিয়াম ইত্যাদিরা ব্যবহার করে FAT 16, ও FAT 32 উভয় ফরম্যাট। উইন্ডােজ NT ব্যবহার করে NTFS এবং FAT 16 ফাইল সিস্টেম। তবে আধুনিক সব অপারেটিং সিস্টেমই একাধিক ফাইল সিস্টেম সাপাের্ট করে। MS-DOS-এ অবশ্য কেবলমাত্র FAT বা FAT 16 ফাইল সিস্টেমই ব্যবহার করা যায়। এজন্য ব্যবহারকারীর অবশ্য কোন চিন্তা নেই, DOS নিজেই এই পুরাে ম্যানেজমেন্টের কাজ করে।

 

ফাইল এট্রিবিউট

ফাইলের নাম, ডিস্কে (অর্থাৎ FAT-এ) তার অবস্থান, আকৃতি ইত্যাদি ছাড়াও ফাইলের আরেকটি বিশেষত্ব থাকে, তা হল ফাইল অ্যাট্রিবিউট। ফাইল অ্যাট্রিবিউট নির্দেশ করে যে এই ফাইল নিয়ে কি কি কাজ করা যাবে, কি কি কাজ করা হয়েছে ইত্যাদি। ফাইলের অ্যাট্রিবিউট চার রকমের হয়-

রিড ওনলি (Read Only)

MS-DOS-এ একে R দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। রিড ওনলি অ্যাট্রিবিউট আছে এমন ফাইলকে শুধুমাত্র পড়া যায়, তাতে কোন পরিবর্তন করা যায় না। পরিবর্তন করতে হলে রিড ওনলি অ্যাট্রিবিউট আগে পরিবর্তন করে নিয়ে ফাইলকেনৰ্যাল অ্যাট্রিবিউটে নিয়ে আসতে হয়। সাধারণতঃ ফাইলে এই অ্যাট্রিবিউট থাকে। MS-DOS-এর বিশেষ ইউটিলিটির দ্বারা অ্যাট্রিবিউট পরিবর্তন করা যায়।

হিডেন (Hidden)

এই অ্যাট্রিবিউট থাকলে সেই ফাইলকে সাধারণ নির্দেশের সাহায্যে দেখা যাবে না। অর্থাৎ ফাইলটা ডিস্কে লুকিয়ে বা হিডেন অবস্থায় থাকবে। একে H চিহ্ন দ্বারা MS-DOS নির্দেশ করে। MS-DOS-এর বুটিং-এর জন্য প্রয়ােজনীয় IO.SYS এবং MS-DOS.SYS ফাইল দুটি এইরকম হিডেন অবস্থায় থাকে বলে এদেরকে সাধারণভাবে দেখা যায় না।

সিস্টেম (System)

এর মাধ্যমে MS-DOS বুঝতে পারে যে ফাইলটা OS-এর সিস্টেম ফাইল। তবে এটা একটা নির্দেশ মাত্র, OS-এর ফাইলে যে সিস্টেম অ্যাট্রিবিউট থাকবেই তার কোন মানে নেই। আর এই অ্যাট্রিবিউট না থাকলেও ফাইলটা ঠিকমতই সিস্টেম ফাইল হিসাবে কাজ করে।

সিস্টেমকে S দ্বারা MS-DOS চেনে। S অ্যাট্রিবিউটযুক্ত ফাইল সর্বদাই হিডেন হয়। এমনকি H অ্যাট্রিবিউট না থাকলেও। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে একটা ফাইলের একাধিক অ্যাট্রিবিউট থাকতে পারে।

এমনকি সবকটা অ্যাট্রিবিউট একসঙ্গেই থাকতে পারে। তবে S অ্যাট্রিবিউটযুক্ত ফাইলের কোন অ্যাট্রিবিউটকে আর পরিবর্তন করা যায় না, যতক্ষণ না তার S অ্যাট্রিবিউটকে অফ করে নম্যাল না করা হচ্ছে।

আর্কাইভ (Archive)

আর্কাইভ হল ডেটা ব্যাকআপ বা তথ্য সংরক্ষণ নির্দেশ করবার অ্যাট্রিবিউট। একে A দ্বারা নির্দেশ করা হয়। যখন একটা ফাইলকে বিশেষ নির্দেশ-এর মাধ্যমে ডিস্কে এর ব্যাকআপ নেওয়া হয় (অর্থাৎ এর একটাহুবহু কপিঅপর একটা ডিস্কে তােলা হয়) তখন A যুক্ত ফাইলই কেবলমাত্র ব্যাকআপ হয়। আর ব্যাকআপ হয়ে গেলেই আসলের A অ্যাট্রিবিউট উঠে যায়।

এইভাবে MS-DOS-এর ব্যাকআপ ইউটিলিটি প্রােগ্রামটা বুঝতে পারে যে কোনটার ব্যাকআপ নেওয়া হল আর কোনটির হল না MS-DOS-এর এক বিশেষ ইউটিলিটি ATTRIB-এর সাহায্যে আমরা যেকোন ফাইলের যেকোন অ্যাট্রিবিউট পরিবর্তন করতে পারি। এটা আমরা MS-DOS কম্যান্ড অংশে দেখব। সাধারণভাবে ফাইলে আর্কাইভঅ্যাট্রিবিউট করাই থাকে ও বাকিগুলাে অফ করা থাকে (অর্থাৎ নর্মাল, শুধু A অন্ করা) থাকে।

PC-র বিভিন্ন পেরিফেরালস

অতিরিক্ত হার্ডওয়্যার ডিভাইস হিসাবে PC-র সঙ্গে আরও অনেক পেরিফেরাল ডিভাইস যুক্ত করা যায়। কয়েকটা বাদে MS-DOS-এ প্রায় সব পেরিফেরালই ব্যবহার করা যায়। এখানে আমরা আলােচনা করব এই ধরনের কিছু পেরিফেরালস্ সম্পর্কে-

প্রিন্টার

প্রায় সবক্ষেত্রেই প্রয়ােজনীয় প্রিন্টারকে আজকাল আর অতিরিক্ত সুবিধা হিসাবে ভাবাই হয় না।প্রিন্টারের মাধ্যমে কোন তথ্য ছবি বা লেখা কাগজে ছাপা যায়।

এটা দেখতে ছােট বা বড় আকৃতির টাইপ রাইটারের মত তবে কার্যপদ্ধতি আলাদা। PC-র সঙ্গে বিশেষ কেবল দ্বারা এটা যুক্ত থাকে। কাজের দিকে নির্ভর করে প্রিন্টার অনেক রকমের হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হল ডট ম্যাট্রিক্স (dot matrix), ইঙ্কজেট বা ডেস্কজেট (inkjet or deskjet) এবং লেজার (Laser) প্রিন্টার। প্রিন্টারে ছাপানাে প্রােগ্রাম বা ডেটাকে হার্ডকপি (hard copy) বলে।

ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার সাধারণভাবে অফিসের কাজে বেশি প্রচলিত। এখানে কাগজের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডট-এর সাহায্যে ম্যাট্রিক্স আকারে লেখা বা ছবি ছাপা হয়। এই কাজের জন্য রয়েছে প্রিন্ট হেড যার মধ্যে থাকে একাধিক পিন।

এই পিনগুলি হেডের বাইরে বেরিয়ে এসে কালি মাখানাে রিবন-এর গায়ে ফায়ার করে। রিবনের বিপরীতে থাকে কাগজ, ফলে টাইপ রাইটারের মত কাগজে ডট-এর ছাপটা চলে আসে। হেডটা সরে সরে বিভিন্ন অবস্থানে বিভিন্ন পিন অত্যন্ত দ্রুত ফায়ার করে ও এইভাবে ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার-এ হার্ড কপি পাওয়া যায়।

এখনকার দিনে ডট ম্যাট্রিক্স-এর চাইতেও বেশি প্রচলিত হল ইঙ্কজেট বা ডেস্কজেট প্রিন্টার। এর কার্য পদ্ধতি ডট ম্যাট্রিক্স-এর মতই। তবে এখানে পিন-এর বদলে ব্যবহার করা হয় সরু কালির ফোয়ারা বা জেট।

খুব সূক্ষ্ম এই কালির জেট-এ কাগজে ছাপা হয় বলে অনেক সময় একে বাবজেট (বাব হল আসলে কালির বিন্দু)-ও বলা হয়। এখানে কোন রিবন জাতীয় জিনিস নেই। এর হেডেই তরল কালি ভরা থাকে, সেখান থেকে হেড নজল-এর মাধ্যমে এটা কাগজের উপর স্প্রে হয়ে লেখার বা ছবির সৃষ্টি করে।

ইঙ্কজেট প্রিন্টারের একটা মস্ত সুবিধা হল যে এতে ছাপার মান ডট ম্যাট্রিক্স-এর তুলনায় অনেক গুণ ভালাে ও এতে রঙ্গীন লেখা এবং ছবিও ছাপা যায়। অবশ্য এর কালির দাম ডট ম্যাট্রিক্স-এর রিবন-এর তুলনায় অনেক বেশি।

আজকাল অনেক ফটো কোয়ালিটি ডেস্কজেট বা ইঙ্কজেট প্রিন্টার বেরিয়েছে যাতে ভাল কোয়ালিটির ছবি ছাপলে তা হুবহু ফোটোগ্রাফ-এর মতই বেরােয়। তবে তার দামও অনেক বেশি এবং ফটো কোয়ালিটি কাগজও দরকার।

লেজার প্রিন্টার হল সবচেয়ে দামি প্রিন্টার। এখানে লেজার রশ্মি দিয়ে তৈরী করা হয় স্ট্যাটিক চার্জ যেটা একটা ড্রামের উপরে গঠিত হয়। এই চার্জের উপর বিপরীতধর্মী চার্জযুক্ত গুড়াে কালি বা টোনার ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এরপরে এই ড্রামের কালিটা কাগজে লেগে গিয়ে লেখা বা ছবির সৃষ্টি করে। এবারে কাগজকে একটা হিটারের উপর দিয়ে পাস করালে গুঁড়াে কালিটা উত্তাপে গলে গিয়ে (একে বলে ফিউজিং) কাগজের সঙ্গে আটকে যায়।

এইভাবে লেজার প্রিন্টারে কোন কাগজ-এর উপরে ছাপা হয়। শুধুমাত্র কাগজই নয়, ট্রেসিং পেপার ও ট্রান্সপারেন্ট ফিল্ম পেপার-এর উপরেও’লেজার প্রিন্টারে প্রিন্ট করা যায়। এখানে কাগজ-এর উপরে কোন আঘাত করে ছাপা হয় না বলে একে নন্ ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার বলে।

লেজার প্রিন্টার একবারে একটা পুরাে পেজ ছাপে বলে একে পেজ প্রিন্টারও বলে। এই তিন রকমের প্রিন্টার ছাড়াও লাইন প্রিন্টার, থার্মাল প্রিন্টার, ডেইজি হুইল প্রিন্টার ইত্যাদিও রয়েছে। তবে এগুলাে ততটা প্রচলিত নয়। MS-DOS-এ প্রায় সব ধরনের ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারই কাজ করে। এছাড়া কিছু ইঙ্কজেট ও লেজার প্রিন্টারও MS-DOS-এ কাজ করে।

প্লটার (plotter) হল বিরাট আকৃতির প্রিন্টার। এতে সাধারণতঃ বড় ধরনের ড্রয়িং বা ডিজাইন প্রিন্ট করা হয়। পেন প্লটার ও ইঙ্কজেটপ্লটার রয়েছে, বর্তমানে ইঙ্কজেট প্লটারই বেশি প্রচলিত।

এটা আসলে একটা বড় ধরনের প্রিন্টার যাতে খবরের কাগজের মত মাপের কাগজ বা তার চাইতেও বড় কাগজ (বিভিন্ন সাইজের প্লটার পাওয়া যায়) ছাপা যায়। MS-DOS-এ অবশ্য প্লট সংক্রান্ত কোন কাজ করা হয় না।

স্ক্যানার

এর সাহায্যে কোন ছবি, লেখা বা কোন প্রিন্টেড ডকুমেন্টকে হার্ডডিস্কে ইমেজ বা টেক্সট ফাইল হিসাবে স্টোর করে রাখা যায়। এটা হ্যান্ডহেল্ড ও ফ্ল্যাটবেড এই দুই রকমের হয়। ফ্ল্যাটবেড স্ক্যানার দেখতে খুব ছােট আকৃতির জেরক্স মেশিনের মত। MS-DOS-এ অবশ্য স্ক্যানার-এর কোন কাজ নেই।

মােডেম

এটা একটা ডিভাইস যার সাহায্যে টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে কম্পিউটারের তথ্য এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে পারে। এটা প্রধানতঃ ফাইল ট্রান্সফার ও ইন্টারনেট অ্যাকসেসের জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়। MS-DOS-এ অবশ্য মােডেম কাজ করে না। তবে DOS-এ এখনও কিছু কমিউনিকেশন প্রােগ্রাম প্রচলিত আছে।

পাওয়ার কন্ডিশনিং ডিভাইস

PC-কে ইলেকট্রিক্যাল ফল্ট সার্জ বা স্পাইক ইত্যাদির হাত থেকে বাঁচাবার জন্য ব্যবহার করা হয় CVT (কনস্ট্যান্ট ভােল্টেজ ট্রান্সফরমার) বা UPS (আনইন্টারাপটেড পাওয়ার সাপ্লাই)।

এর মধ্যে CVT একটা সাধারণ স্ট্যাবিলাইজার-এর মত কাজ করে, কিন্তু UPS-এর ক্ষেত্রে এর নিজস্ব ব্যাটারী থাকার জন্য লােডশেডিং-এর ক্ষেত্রে ১০-১৫মিনিট PC-কে চালু রাখতে পারে। একে বলে UPS-এর ব্যাক আপ টাইম। এই সময়ের মধ্যে আপনি আপনার কাজ শেষ করে PC-কে বন্ধ করে দিতে পারেন।

 

PCর বিভিন্ন I/O (ইনপুট/আউটপুট) পাের্ট

PC-র সিস্টেম ইউনিট-এর সঙ্গে মনিটার কীবাের্ড ইত্যাদি এবং অন্যান্য পেরিফেরালগুলাে বিশেষ ধরনের কেব-এর সাহায্যে যুক্ত থাকে। এই ডিভাইসগুলােতে ডেটা চলাচল একমুখী (uni-directional) বা দ্বিমুখী (bi-directional) হতে পারে। যে বিশেষ সকেটে এগুলি PC-র সঙ্গে যুক্ত থাকে তাদের I/O বা ইনপুট/আউটপুট পাের্ট বলা হয়। PC-তে সাধারণভাবে যে যে পাের্টগুলাে থাকে সেগুলাে হল-

VGA বা sVGA মনিটার আউটপুট পাের্ট

এতে যুক্ত থাকে মনিটারের সিগন্যাল কেবল। এই পাের্টের মাধ্যমে PC আউটপুট পাঠায় মনিটারকে।

কীবাের্ডের 5 পিন পাের্ট

এই পাের্টে কীবাের্ড যুক্ত থাকে এবং এখানে কীবাের্ড থেকে ডেটা PC-তে আসে। সুতরাং এটা হল ইনপুট পাের্ট। 5 পিন-এর জায়গায় অনেক সময় 6 পিন PS/2 (পারসােনাল সিস্টেম/2) টাইপের কানেক্টারও এখানে থাকে।

সিরিয়াল পাের্ট

এই পাের্টে বিট বাই বিট সিরিয়ালি ডেটা চলাচল করে বলে একে সিরিয়াল পাের্ট বলে। সাধারণতঃ PC-তে দুটো সিরিয়াল পাের্ট থাকে। এটা ইনপুট এবং আউটপুট উভয় পাের্ট হিসাবেই কাজ করতে পারে। সিরিয়াল পাের্টে সাধারণতঃ মাউস ও মােডেম ব্যবহার করা হয়।

D প্যারালাল পাের্ট

নাম শুনেই বােঝা যাচ্ছে যে এটাতে একাধিক তারের মাধ্যমে একই সঙ্গে অনেক ডেটা চলাচল করতে পারে প্যারালালি অথাৎসমান্তরালভাবে। এটাও ইনপুট বা আউটপুট ধরনের হতে পারে। PC-তে সাধারণতঃ একটাই প্যারালাল পাের্ট থাকে। প্যারালাল পাের্টে সাধারণতঃ প্রিন্টার, প্লটার, স্ক্যানার প্রভৃতি লাগানাে হয়।

পাওয়ার কানেক্টার সকেট

মেন লাইনের 220V AC সাপ্লাই পাওয়ার কর্ডের মাধ্যমে PC-তে ঢােকে। এর পাশেই একটা সকেট থাকে যার মাধ্যমে মনিটারেও 220V সাপ্লাই যায়। অর্থাৎ PC এবং মনিটার দুটো আলাদা জিনিস হলেও একটাই পাওয়ার কর্ড মারফৎ এদেরকে চালানাে যায়।

USB এবং PS/2

USB হল ইউনিভার্সাল সিরিয়াল বাস। আধুনিক PC-তে অনেক সময় থাকে। এটাও একটা JO পাের্ট অবশ্য MS-DOS-এর এতে কোন কাজ নেই। এখনকার আধুনিক প্রিন্টার, স্ক্যানার ইত্যাদি USB ইন্টারফেস সমেতও পাওয়া যাচ্ছে যাতে তাদের USB পাের্টে ব্যবহার করা যায়। PS/2 হল এক বিশেষ ধরনের মাউস পাের্ট।

PC চালু করা এবং বুটিং (booting)

আপনি যদি কোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষার্থী হন তবে প্রশিক্ষকের কাছে জানতে পারবেন কিভাবে কোন PC-কে চালু করতে হয়। সাধারণ নিয়ম হল সুইচ বাের্ডে PC-র প্লাগ যুক্ত করে PC-র পাওয়ার সুইচকে অন্ করে দেওয়া।

এর ফলে PC-র সামনের প্যানেলে এক বা একাধিক ইন্ডিকেটার জ্বলে উঠবে। যদি এই সময় মনিটারের সামনেও পাওয়ার ইন্ডিকেটার জ্বলে ওঠে তবে একমাত্র ডিসপ্লের জন্য অপেক্ষা করুন, না জ্বললে মনিটারের অন/অফ সুইচকে অন করে দিন।

PC-তে অবস্থিত ROM বা রিড ওনলি মেমরীর BIOS (বেসিক ইনপুট আউটপুট সিস্টেম) প্রােগ্রাম এবারে চালু হবে ও স্ক্রিনে কিছু লেখা (একে বলে বায়ােসের সাইন অন্ মেসেজ—প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমে BIOS প্রস্তুতকারকের নাম, ভার্সন ইত্যাদি জানা যায়) দেখা দেবে। এর পরেই BIOS মেমরী টেষ্ট শুরু করবে।

মেমরী টেষ্ট চলাকালীন স্ক্রিনে দেখবেন কত কিলােবাইট মেগাবাইট মেমরী আপনার PC-তে আছে ও সেটা ঠিকমত কাজ করছে কি না তার নির্দেশ। মেমরী টেষ্ট হয়ে যাওয়ার পরে আরও কত গুলাে লেখা বা কনফিগারেশন দেখিয়ে PC এবারে অপারেটিং সিস্টেমকে বুট করতে আরম্ভ করবে।

PC চালু করা থেকে শুরু করে বুটিং-এর আগে পর্যন্ত সময়টাতে BIOS যে কাজটা করে তাকে বলে POST বা Power On Self Test। এই সেলফ টেষ্ট-এর সময় BIOS PC-র বিভিন্ন হার্ডওয়্যার অংশ (যেটা সিস্টেম ইউনিট-এর ভেতরে আছে)-কে পরীক্ষা করে।

এরপরে BIOS ডিস্ক ড্রাইভ থেকে বুট রেকর্ড প্রােগ্রাম পড়বার নির্দেশ দেয়। প্রথমে কোন ড্রাইভ থেকে বুট রেকর্ড পড়া হবে, সেখানে না পেলেই বা কোন ড্রাইভে যাওয়া হবে….. এই নির্দেশকে বলে boot sequence বা বুটিং-এর ক্রমিক সংখ্যা। এটা সাধারণতঃ প্রথমে ফ্লপি ড্রাইভ (A ড্রাইভ) ও পরে ফিক্সড় বা হার্ড ড্রাইভ (C ড্রাইভ)হয়ে থাকে। উভয় ড্রাইভেই যদি বুট রেকর্ড প্রােগ্রাম না থাকে, তবে BIOS, Disk Boot Failure জাতীয় কোন মেসেজ দেখিয়ে হল্ট করে যায়।

বুট রেকর্ড ঠিকমত লােড হলে এটা এক্সিকিউটেড হয় ও তখন বাস্তবক্ষেত্রে BIOS-এর আর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। বুট রেকর্ডে অবস্থিত প্রােগ্রামটা এবারে পুরাে অপারেটিং সিস্টেমটাকে লােড করতে থাকে। অপারেটিং সিস্টেম সম্পূর্ণ লােড হওয়ার পরে তা ব্যবহারকারীর কাছে থেকে তথ্য বা নির্দেশের অপেক্ষায় বসে থাকে।

MS-DOS-এর ক্ষেত্রে অপারেটিং সিস্টেম-এর বেসিক অংশটা (পরিভাষায় একে OS-এর কার্নেল বলে) লােড করবার জন্য ডিস্কে MS-DOS-এর বুট রেকর্ড ছাড়াও তিনটি ফাইলের প্রয়ােজন হয়। এগুলি হল-

  • IO.SYS
  • MSDOS .SYS 97
  • COMMAND.COM

IBM এর PC DOS-এর ক্ষেত্রে তৃতীয় ফাইলটা একই থাকে, প্রথম দুটি ফাইলের বদলে ব্যবহার করা হয় IBMDOS.COM এবং IBMBIO.COM| এই তিনটি ফাইলের মধ্যে প্রথম দুটি ডিস্কে থাকে লুকোনাে বা hidden অবস্থায়। এই দুটি হল MS-DOS-এর সিস্টেম ফাইল।

তৃতীয় ফাইল অর্থাৎ COMMAND.COM অবশ্য সাধারণ অবস্থাতেই থাকে এবং এটা হল MS-DOS-এর কম্যান্ড ইন্টারপ্রিটার বা কম্যান্ড প্রসেসর প্রােগ্রাম। এই ফাইলটা অর্থাৎ ফাইলে অবস্থিত প্রােগ্রামটা আমাদের দেওয়া নির্দেশ MS-DOS-এর বােধ্য মেশিন ভাষায় রূপান্তরিত করে দেয়।

অর্থাৎ এটা একটা ইন্টারপ্রিটার বা অনুবাদকের কাজ করে। তিনটি ফাইলই ঠিকমত লােড হয়ে গেলে স্ক্রিনে MS-DOS ও তার ভারশন সংক্রান্ত কপিরাইট মেসেজ দেখা দেয় এবং স্ক্রিনে সিস্টেম প্রম্পট (system prompt) বা DOS প্রম্পট(এটা A:>- বা C:>-হতে পারে, নির্ভর করছে কোন ড্রাইভ থেকে বুট করা হয়েছে তার উপর) দেখা দেয়। এই অবস্থাতে MS-DOS দাড়িয়ে থাকে যতক্ষণ না আমরা কীবাের্ডে টাইপ করে কোন নির্দেশ দিচ্ছি।

এবারে দেখা যাক MS-DOS-এর ক্ষেত্রে কিভাবে পুরাে বুটিং প্রক্রিয়াটি সম্পাদিত হয়

• BIOS বুট রেকর্ড পড়বার নির্দেশ দিলে সেটা পড়া হয় ও প্রােগ্রামটা এক্সিকিউট করা হয়। এখানে MS-DOS-এর ভার্শন বলে দেওয়া থাকে। যদি ডিস্কটি বুটেবল্ না হয় (অর্থাৎ ডিস্কে সিস্টেমের প্রয়ােজনীয় ফাইল এবং বুট রেকর্ড না থাকে। তবে এই সময় প্রােগ্রামটিই মেসেজ দেখায়- Nonsystem disk or disk error replace and press any key…

বুট রেকর্ড প্রােগ্রাম ঠিকমত রিড না করলে বা সেটা এক্সিকিউট করতে গিয়ে কোন সমস্যা হলেও এই মেসেজ দেখা যেতে পারে।

• বুট রেকর্ড পড়ে ঠিকমত এক্সিকিউট হলে স্ক্রিনে মেসেজ আসে Starting MS-DOS…—এটা অবশ্য MS-DOS ভার্শন 6.22 (আমরা এই ভার্শনটা নিয়েই কাজ করব) তে-ই আসে। এর পরে যথাক্রমে IO.SYS এবং MSDOS.SYS লােড হয়।

এবারে ডস চেক করে যে রুট ডিরেক্টারীতে CONFIG.SYS নামক ফাইল আছে কি না। এই ফাইল সাধারণভাবে থাকে না, তৈরী করে নিতে হয় এবং এতে থাকে MS-DOS-এর কনফিগারেশন সংক্রান্ত নির্দেশ। ফাইল থাকলে তাতে অবস্থিত নির্দেশগুলাে পালন করা হয়।

• CONFIG.SYS ফাইল না থাকলে এই অংশকে স্কিপ করে DOS COMMAND.COM-কে লােড করে। COMMAND.COM লােড হলে এর ভার্শন ও কপিরাইট মেসেজ দেখা দেয়। COMMAND.COM লােড হওয়ার পরে AUTOEXEC.BAT ফাইলকে রুট ডিরেক্টারীতে খোঁজে।

এটাও MS-DOS-এর একটা অটোমেটিক এক্সিকিউটেবল ব্যাচ প্রসেসিং ফাইল। এতে বিভিন্ন ধরনের নির্শে থাকে। এটাও সাধারণভাবে থাকে না, তৈরী করে নিতে হয়। AUTOEXEC.BAT ফাইল না থাকলে COMMAND.COM লােড হওয়ার পরেই সঠিক তারিখ ও সময় জানতে চায়।

AUTOEXEC.BAT থাকলে সরাসরি নির্দেশগুলাে পালিত হয়। CONFIG.SYS এবং AUTOEXEC.BAT ফাইলের ব্যপারটা আমরা এই বই-এর শেষ অংশে জানিয়েছি।

• MS-DOS সম্পূর্ণ লােড হয়ে গেলে A:>- প্রম্পট (যদি আপনি ফ্লপি ড্রাইভ বা A ড্রাইভ থেকে MS-DOS-কে বুট করান) অথবা C:>- প্রম্পট (C ড্রাইভ বা হার্ড ডিস্ক থেকে বুটিং-এর ক্ষেত্রে) স্ক্রিনে চলে আসে। এর পাশেই দপদপ করতে থাকে কারসার।

এর অর্থ MS-DOS আমাদের থেকে নির্দেশ গ্রহণের জন্য তৈরী। আমরা এখন যা টাইপ করব তা স্ক্রিনে কারসারের অবস্থান থেকে পরপর ডানদিকে আসতে থাকবে।

যেহেতু আজকের দিনে হার্ড ডিস্ক ছাড়া PC প্রায় অচল, তাই আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনার PC-তে হার্ড ডিস্ক ইনস্টল করা আছে এবং MS-DOS ভার্শন 6.22পুরােটাই ঠিকমত ইনস্টল আছে।

আপনার কাজের জন্য মােটামুটি 10 থেকে 20 MB জায়গা প্রয়ােজন। এর মধ্যে 4 থেকে 7 MB মত জায়গা MS-DOS-এর জন্য দরকার MS-DOS ঠিকমত ইনস্টল থাকলে আপনি হার্ডডিস্ক থেকেই বুট করতে পারবেন এবং C:>প্রম্পট পাবেন।

 

PC-র কিছু সাধারণ পরিচর্যা

PC ব্যবহার করবার সময় কিছু সাধারণ নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। এগুলি হল-
  • PC-কে ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় ব্যবহার করুন। বেশি উত্তপ্ত ঘরে বা সরাসরি সূর্যালােক প্রবেশ করে এমন ঘরে PC বেশিক্ষণ চালানাে উচিৎ নয়। ঘর যেন বেশি সাতস্যাঁতে না হয়, আদ্রতা যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এয়ার কণ্ডিশনার ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়। তবে ঘর যতটা সম্ভব ধুলােবালি মুক্ত থাকা উচিৎ।
  • PC যে টেবিলে থাকলে সেই টেবিলের সঙ্গে সঠিক উচ্চতার চেয়ার ব্যবহার করা উচিত যাতে মনিটারের স্ক্রিন চোখের সঙ্গে মােটামুটি লম্বভাবে থাকে। কীবাের্ডও এমন উচ্চতায় থাকা উচিৎ যাতে দ্রুত ও বেশিক্ষণ টাইপ করলে যেন হাতে ব্যথা না করে।
  • PC-র সঙ্গে সর্বদাই উপযুক্ত পাওয়ার কণ্ডিশনার ব্যবহার করা উচিৎ। UPS হল। সবচেয়ে আদর্শ, তবে বাজেটে না কুলােলে CVT ব্যবহার করতে পারেন।
  • ফ্লপিকে সবসময় সাবধানে ব্যবহার করা উচিৎ যাতে তার মধ্যে কোন ধুলােবালি প্রবেশ না করে।ধুলােবালি যদি ডিস্কের ম্যাগনেটিক সারফেসে চলে যায় তবে ড্রাইভে ডিস্ক ঘােরবার সময় এটি সারফেস এবং হেডকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে।
  • যেহেতু সাধারণ TV থেকে অনেক কাছে বসে আপনি মনিটারের তথ্য দেখছেন, তাই মনিটারে ব্রাইটনেস বেশি দেবেন না। প্রয়ােজনে একটা অ্যান্টিগ্লেয়ার (antiglare) ফিল্টার গ্লাস ব্যবহার করুন।
  • কীবাের্ডের সামনে চা বা জল রাখবেন না। অসাবধানে পড়ে গেলে কীবাের্ড ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
  • PC-তে কাজ করবার আগে ঠিকভাবে মনস্থির করে নিন যে কি কাজ করতেচাইছেন। এতে কাজের গতি ও মনঃসংযােগ বাড়ে। অন্যমনস্ক হয়ে কাজ করলে কাজে ভুলভ্রান্তি ঘটে।