অপারেটিং সিস্টেম আসলে কি? অপারেটিং সিস্টেম কত প্রকার?

একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে দাঁড়িয়ে এখনও কি চোখ বন্ধ করে আছেন? একবার চোখ মেলে দেখুন-দুনিয়াটা কত পাল্টে গেছে। কত নতুন আমাদের সেই পরিচিত জগৎ-স্বপ্নের মায়াজালে ঘেরা আমাদের এই জগৎ, এ এখন কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স এর জগৎ।
অপারেটিং সিস্টেম কি

ইলেকট্রনিক্স ও কম্পিউটার আমাদের জীবনে এক অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে। অত্যাধুনিক সভ্যতার দান সেই অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক্স ও কম্পিউটার দুনিয়া কি আপনি এখনও অনুভব করতে পারছেন না? একবার উপলব্ধি করুন বিজ্ঞানসভ্যতা আপনাকে কি উপহার দিয়েছে। এর সঠিক ব্যবহার কি আপনি এখনও করতে চাইবেন না? তাহলে আসুন আজকে জেনে নেওয়া যাক কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম আসলে কি?

অপারেটিং সিস্টেম কি?

কম্পিউটার, অর্থাৎ সাধারণভাবে যাকে আমরা PC বা পারসােনাল কম্পিউটার বলি, এর প্রধান অংশ হল দুটি-হার্ডওয়্যার বা ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ এবং সফ্টওয়্যার বা নির্দেশ যেটা কম্পিউটারে প্রয়ােগ করলে সে নিজে কোন কাজ করতে পারে।

হার্ডওয়্যার অংশ একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কাজ করে। এটা আমাদের কাছ থেকে তার বােধ্য ভাষায়, অর্থাৎ বাইনারিতে বা আরও ভালভাবে বললে মেশিন বা অ্যাসেম্বলী ভাষায়, নির্দেশ চায়। আবার প্রতিটি সফটওয়্যার বা নির্দেশ এমনভাবে তৈরী করা সম্ভব নয় যাতে তাদের বাইনারি বা অ্যাসেম্বলী ভাষায় পরিণত করে সহজে ব্যবহার করা সম্ভব।

এই কারণে হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যার-এর মাঝখানে এমন একটা বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার থাকে যা এই পরিবর্তন বা দোভাষীর কাজ করতে পারে। এরই নাম হল অপারেটিং সিস্টেম বা OS এবং এই সংক্রান্ত সফ্টওয়্যারগুলি সিস্টেম সফ্টওয়্যার নামে পরিচিত। এই দোভাষীর কাজ ছাড়া OS নিজে কিছু কিছু ডিভাইস এবং পেরিফেরালকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিছু কিছু কম্যাণ্ড বুঝতে পারে এবং বেশ কিছু ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত ইউটিলিটি প্রােগ্রামও সাধারণতঃ এর মধ্যে থাকে।

অর্থাৎ সােজা কথায় কম্পিউটারের প্রাথমিক কাজকর্মগুলাে নিয়ন্ত্রণ করা ও সেই সংক্রান্ত কিছু ম্যানেজমেন্ট ইউটিলিটি যে বিশেষ সিস্টেম সফটওয়্যারে পাওয়া যায় এবং যেটা বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনকে চালানাের জন্য অত্যন্ত জরুরী তারই নাম OS বা অপারেটিং সিস্টেম। OS কে কোন গাড়ির ড্রাইভারের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। এখানে গাড়িটাকে হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রাংশ বলে ভাবলে গাড়ির আরােহী হল একটা অ্যাপ্লিকেশন সফ্টওয়্যার যা নির্দেশ দিচ্ছে কোন রাস্তা দিয়ে কোনদিকে কিভাবে গাড়ি চালাতে হবে।

এই দুই এর মাঝখানে রয়েছে গাড়ির চালক যে আরােহী বা অ্যাপ্লিকেশন-এর কাছ থেকে নির্দেশ পেয়ে গাড়ির বােধ্য পদ্ধতিতে, অথাৎ স্টিয়ারিং গীয়ার ইত্যাদির মাধ্যমে, গাড়িকে চালাচ্ছে। অবশ্য গাড়ির আরােহী যদি নিজেই গাড়ি চালাতে জানে তবে আর চালকের প্রয়ােজন নেই। তেমনি অ্যাপ্লিকেশন অনেক ক্ষেত্রে OS কে বাইপাস করে হার্ডওয়্যারকে সরাসরি নির্দেশ দিতে পারে।

আজকের দিনে অবশ্য OS বা অপারেটিং সিস্টেম বলতে আরও অনেক কিছু বেশি বােঝায়। বর্তমানের আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম আকৃতিতে বড় এবং প্রায় সবই বহু রকমের ইউটিলিটি সমৃদ্ধ। OS প্রধানতঃ দুইভাবে মনিটার পর্দার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর থেকে তথ্য নেয় বা ব্যবহারকারীকে তথ্য দেয়।

প্রথমটা হল টেক্সট মােড় বা টেক্সট ইন্টারফেস। এই ধরনের OS-গুলাে স্ক্রিনে লেখা ফুটিয়ে তুলে ব্যবহারকারীর সঙ্গে যােগাযােগ করে। আমাদের আলােচ্য MS-DOS (মাইক্রোসফ্ট ডিস্ক বেস অপারেটিং সিস্টেম), PC-DOS (IBM বা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিন-এর জন্য তৈরি পারসােনাল কম্পিউটার DOS), DR-DOS প্রভৃতি (DR হল Digital Research) হল সাধারণ অবস্থায় টেক্সট ইন্টারফেস যুক্ত।

অপরদিকে এখনকার MS Windows (মাইক্রোসফ্ট-এর তৈরী প্রবল জনপ্রিয় উইন্ডােজ অপারেটিং সিস্টেম), Linux (একটা UNIX ক্লোন অপারেটিং সিস্টেম, প্রায় বিনা পয়সায় পাওয়া যায়, সারা পৃথিবী জুড়ে এখন একে নিয়ে দারুণ হৈ চৈ চলছে) হল গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (একে বলে GUI) যুক্ত অপারেটিং সিস্টেম।

এরা মনিটার স্ক্রিনে টেক্সট এবং গ্রাফিক্স, ছবি ইত্যাদি প্রদর্শন করতে পারে এবং কীবাের্ড ছাড়াও কোন পয়েন্টিং ডিভাইস (যেমন-মাউস, টাচপ্যাড, লাইট পেন ইত্যাদি) থেকে নির্দেশ গ্রহণ করতে পারে।

Linux-এর প্রধান অংশটা অবশ্য GUI  নয়, তবে বিভিন্ন Linux প্রস্তুতকারকেরা GUI ডেস্কটপ ইন্টারফেস সমেত (যেমন-KDE) একে বিতরণ করেন। Unix ও অবশ্য প্রথম দিকে GUI based ছিল না, পরে একে GUI based  করা হয়েছে।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে টেক্সট বেস ইন্টারফেস যুক্ত OS কে সাধারণভাবে GUI তে পরিণত করা যায় না। যেমন: MS-DOS-কে গ্রাফিক্যালি ব্যবহার করতে গেলে এর সঙ্গে MS-DOS Shell প্রােগ্রাম ব্যবহার করতে হয়। তবে Shell জাতীয় প্রােগ্রাম-এর ক্ষমতা সীমিত। বর্তমানে GUI based OS-কে অবশ্য টেক্সট মােড়ে ব্যবহার করা যায়, তবে সেক্ষেত্রে GUI-এর সব সুবিধা পাওয়া যায় না।

এই দুই ধরনের OS ছাড়াও আরও এক ধরনের OS বর্তমানে প্রচলিত হয়েছে এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। এদের সাধারণভাবে বলা হয় RTOS বা রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম। এরা কাজ করে অত্যন্ত দ্রুত, অর্থাৎ প্রায় রিয়েল টাইমে। ছােট আকৃতির এই OS যথেষ্ট দক্ষ বিভিন্ন লােড কন্ডিশন সামাল দিতে। এছাড়া এরা প্রায় সবই GUI বেস্ড।

এদের মধ্যে উল্লেখ্য হল LYNX, RTMX, QNX-RTP (রিয়েল টাইম প্ল্যাটফর্ম) প্রভৃতি। দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে বলে অনেক ব্যবহারকারী এদেরকে পছন্দ করছেন। এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা যাদের কথা জানলাম তারা প্রায় সবাই IBM PC-তে (IBM-এর তৈরী পারসােনাল কম্পিউটার স্পেসিফিকেশন) তে চলে।

এখন আমরা চারিদিকেই এই IBM PC ব্যবহার করে থাকি। এর মধ্যে বহু পুরােনাে PC-XT থেকে (8088 প্রসেসর) থেকে অত্যাধুনিক Pentium III পর্যন্ত মেশিন রয়েছে। IBM PC ছাড়া Apple computer-এর Macintosh নামক এক PC আছে যেখানে অন্য ধরনের এক OS ব্যবহার করা হয়।

MAC OS নামক এই OS কেবলমাত্র অ্যাপেল-এর ম্যাকিনটোস মেশিনেই চলে। প্রকৃতপক্ষে IBM PC-তে যেরকম বিভিন্ন OS ব্যবহার করা যায় MAC-এ ততটা সুবিধা নেই। ম্যাক OS তৈরী করে অ্যাপেল কম্পিউটার্স নিজেই এবং এটা প্রতিটি ম্যাক PC-র সঙ্গে দেওয়া হয়।

MAC OS সম্পূর্ণ GUI বেসঅত্যন্ত শক্তিশালী ও বহু প্রােগ্রাম ও ইউটিলিটি সমৃদ্ধ। IBM-এর OS (অর্থাৎ IBM PC সিস্টেম)-এর জন্য যে সমস্ত কমার্শিয়াল সফটওয়্যার প্যাকেজ পাওয়া যায় তার প্রায় সবই এখন ম্যাক OS-এর জন্যও পাওয়া যাচ্ছে।

আমাদের অপারেটিং সিস্টেম

আমাদের আলােচ্য অপারেটিং সিস্টেম হল MS-DOS বা মাইক্রোসফ্ট ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম। নাম শুনে সহজেই বােঝা যায় যে এটা পৃথিবী বিখ্যাত মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের তৈরী ডিস্কে রেকডিং করা (ডিস্ক ইত্যাদি নিয়ে আমরা একটু পরেই আলােচনা করেছি) অপারেটিং সিস্টেম।

প্রায় ২৫ বছর আগে এক অখ্যাত সংস্থা মাইক্রোসফট কর্পোরেশন এই OS তৈরী করে IBM-এর জন্য, পরে এই OS-এর দৌলতেই মাইক্রোসফট পৃথিবী বিখ্যাত হয়ে ওঠে।

অপারেটিং সিস্টেম এবং বিভিন্ন সফ্টওয়্যার কতটা আপডেটেড সেটা তার ভার্শন নম্বর দেখে বুঝতে পারা যায়। এটাকে কোন বই-এর বিভিন্ন সংস্করণের (যেমন-বই যখন প্রথম বেরােয় তখন হয় প্রথম সংস্করণ, তারপরে দ্বিতীয় সংস্করণ ইত্যাদি) সঙ্গে তুলনা করা যায়।

যেমন- MS-DOS-এর সর্বপ্রথম ভার্শন ছিল 1.0 যেটা সবশেষে 6.22-তে এসে শেষ হয়। 6.22-এর পরে মাইক্রোসফ্ট আর ড-এর উপর কাজ করেনি, উইন্ডােজে চলে গেছে।

এখানে একটা উল্লেখ্য হল যে দশমিকের বামদিকের সংখ্যা নির্দেশ করে বড়সড় পরিবর্তনের, যেখানে দশমিকের ডানদিকের সংখ্যা বা ভগ্নাংশ অল্পস্বল্প পরিবর্তন নির্দেশ করে।

যেমন- 1.0 এবং 1.2-তে তফাৎ সামান্যই, কিন্তু ভার্শন 5.0 ও 6.0 -তেঅনেকটাই তফাৎ রয়েছে। আমাদের প্রধান আলােচনা সীমাবদ্ধ থাকবে MS-DOS 6.22-রমধ্যে, অর্থাৎ আপনার মেশিনে যদি আপনি প্র্যাকটিক্যালি এই কাজগুলাে করতে চান তবে আপনার মেশিনেও MS-DOS 6.22 ইনস্টল করা থাকতে হবে।

এছাড়া আমরা MS-DOS-এর কিছু পুরােনাে ভার্শনের অবলুপ্ত নির্দেশের কথাও জানব। MS-DOS ছাড়া PC-DOS 7 বা DR-DOS-এর ক্ষেত্রেও 90% ব্যবহার একই রকমের হবে, কিছু ক্ষেত্রে নির্দেশের সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।